কোথায় ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করা শুরু করবেন?

নতুনদের থেকে যে প্রশ্নটা সবসময় শুনতে হয় সেটা হচ্ছে,  ভাই আমি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চাচ্ছি, কিন্তু কোথায় কাজ করবো?  এটা  আসলে কনফিউজিং এর মধ্যে ফেলে দেয়, শুরুর দিকে আপনি বুঝতে পারবেন না কোন প্ল্যাটফর্ম টা ভালো হবে! বিভিন্ন জন বিভিন্ন ধরনের সাজেশন দেবে, কেউ বলবে ভাই আপনি আপওয়ার্ক  এ শুরু করেন,  কেউ বলবে ফাইভারে শুরু করেন,  আবার অনেকেই বলবে freelancer.com নতুনদের জন্য ভালো!  আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আপনাকে একটা সাজেশন দেই, যারা নতুন তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ফাইভার | কি কারনে ফাইভার সবচেয়ে ভালো এটা ডিটেইলস এ এই ব্লগে এবং ভিডিওতে (নিচে লিংক দেওয়া আছে) আপনাদের কে জানানোর ট্রাই করবো |

নতুনদের কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে ভালো মার্কেট প্লেস কোনগুলি?

মোটাদাগে বললে,  আমি পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের কথা বলব –

  •  ফাইভার
  •  আপওয়ার্ক
  •  Freelancer.com
  •  পিপল পার আওয়ার
  • ৯৯ ডিজাইন (*এটা  শুধু ডিজাইনারদের জন্য, আপনারা যারা অন্য কাজ করেন তাদের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম কোন উপকারে আসবেনা) 

আমি প্রথম তিনটা প্ল্যাটফর্মের সবগুলোতে কাজ করেছি, সো ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের কে কিছু আইডিয়া শেয়ার করতে পারবো । আজকে আমরা শুধু ফাইভার নিয়ে আলোচনা করবো । অন্যগুলো নিয়ে আমরা পরের কোন ব্লগে আলোচনা করবো, না হলে ব্লগটা অনেক বড় হয়ে যাবে ।

যা করবেন, ভেবে চিন্তা করে করবেন ।

ফাইভার

প্রায় ১১ বছর আগে ২০১০ সালে ফাইভার প্রতিষ্ঠিত হয়, বর্তমানে এই প্লাটফর্মে ১.৩ মিলিয়ন গিগ আছে বলে  ফাইভার দাবি করেন । যদি  জেনে না থাকেন তবে বলি, গিগ হচ্ছে  এক ধরনের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট অর্থাৎ আপনি যে কাজটা করবেন তার একটা অ্যাড পোর্টফোলিও আকারে ফাইভারে পোস্ট  করবেন, কিভাবে সবচেয়ে ভালো গিগ তৈরি করবেন, অন্যের কপি পেস্ট না করে এ সম্পর্কে আরেকটা ভিডিও বানানোর ইচ্ছা আছে ইনশাল্লাহ সাথে থাকবেন, খুব শীঘ্রই পোস্ট করব । এখন আপনার মনের মধ্যে প্রথম যে জিনিস কাজ করছে রাইট নাউ,  সেটা হচ্ছে ভাই এই 13 লাখ গিগের মধ্যে আমার মত নব্য ফ্রিল্যান্সার নতুন যে গিগ তৈরি করবে সেটা কি কোন কাজ পাবে? এটা ভাবা স্বাভাবিক, তবে মনে রাখবেন আপনার মতো বাকি সবাই একইভাবে নতুন গিগ তৈরি করে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করেছে, তারা পারলে আপনি পারবেন না কেনো? তবে, হ্যা আমার প্রথম ভিডিওতে যেটা বলেছি, যদি আপনি দক্ষ না হয়ে এই জগতে আসেন, কাজটা যদি প্রফেসনাল লেভেলের না পারেন, তবে সফলতা অর্জন করা অনেক কঠিন হবে । এই যে ১৩ লাখ গিগের পরিসংখ্যান দেখছেন, এর মধ্যে অনলি ২৫/৩০% কাজ পায়, বাকিদের কাজ পাওয়ার হার খুবই কম । কিন্তু কেনো? ভালো করে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, বেশীরভাগ এইসব গিগ তৈরি করেছে অদক্ষ ফ্রীল্যান্সার, প্রায় সবাই আমাদের সাব-কন্টিনেন্ট থেকে । আপনি কি তাদের মতো একজন হয়ে ফ্রীল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে চান না একজন দক্ষ, প্রিপারড ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করতে চান? আমি কোর্স সেল করি না, তবে চেষ্টা করবো এই চ্যানেলের মাধ্যমে আপনারা যারা নতুন তাদেরকে, একটা স্বচ্ছ ধারণা দিতে আসলে কিভাবে ফ্রীল্যান্সিংক্যারিয়ারটা শুরু করা উচিৎ । শুধু আবেগের বশে, টাকার লোভে, কোন রকম গাইডলাইন ছাড়া একটা ক্যারিয়ার শুরু করা উচিৎ না, তাতে অল্পতেই হতাশ হয়ে যাবেন । অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং জগতটা অনেক compititive ।

ফাইভারে কাজ শুরু করার আগে আপনাদের জন্য কিছু টিপস

  1. প্রথম যে টিপস  আমি বলব এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,  আপনি একটা নির্ধারিত বিষয় নিয়ে আপনার সবগুলো গিগ বানাবেন এবং খুব বেশি গিগ বানাবেন না, পাঁচটা থেকে সাতটা, বা আরো কম হলে বেটার ।  এখানে কিছু ভুল ধারনা আছে বিশেষ করে নতুনদের মধ্যে, অনেকে গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে গিগ বানায়, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে গিগ বানায় আবার ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট নিয়েও একই ব্যক্তি গিগ বানায় । আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি একটা বিশেষ দক্ষতা নিয়ে সবগুলো গিগ বানানো অনেক বেটার ।  এটা ক্লায়েন্টকে যে বার্তাটা দেয় যে আপনি ওই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ।  আর সব কিছু নিয়ে যদি গিগ বানান, কেমন যেন একটা খিচুড়ি খিচুড়ি পাব মনে হয় । আর কেউ যখন আপনার প্রোফাইল দেখবে, সে মনে করবে  আপনি হয়তো কোন কাজই পারেন না ।  আবার একই গিগের বিভিন্ন ভার্শন বাড়াবেন না, জাস্ট একটু কম বেশি করে, এটাও কেমন জানি প্রফেশনাল প্রফেশনাল ভাব দেখায় না । সারমর্ম হচ্ছে, আপনি একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবেন এবং খুব ভালো কোয়ালিটির দুই থেকে তিনটা গিগ বানাবেন, সেটা আলাদা আলাদা বিষয়ে কাজ করার জন্য গিগ, একই গিগের তিনটা ভার্শন না ।
  2. কখনো অন্যের দিক কপি পেস্ট করবেন না,  এতে আপনার গিফট কখনোই সার্চ রেজাল্টে ভালো পজিশনে আসতে পারবে না ( আপনি যদি প্রফেশনাল হন তবে কপি পেস্ট একদম করা উচিত না, এটা এক ধরনের প্রতারণা) এবং অরিজিনাল গিগের মালিক সে যদি আপনার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে, তাহলে ফাইভার আপনার কি ডিজেবল করে দেবে এর সম্ভাবনা অনেক বেশি । 
  3.  ক্লায়েন্টের সাথে প্রফেশনালি এবং যত দ্রুত সম্ভব রেসপন্স করার ট্রাই করবেন এমনকি আপনি যদি কাজটা নাও করেন তাহলে ভদ্রভাবে রেসপন্স করবেন । আরেকটা বিষয়, থ্যাঙ্ক ইউ স্যার,  ইয়েস স্যার এগুলো বার বার রিপিট করবেন না । কমিউনিকেশন নিয়ে একটা আলাদা ভিডিও হবে, সো এখানে আমি আর ডিটেইলস বলবো না ।
  4. প্রথমদিকে প্রাইস কম রেখে কাজ করা অনেক বেটার, এক্কেবারে অস্বাভাবিক ভাবে কম প্রাইস বলবেন না, এতে ক্লায়েন্ট মনে করতে পারি যে আপনি কাজটা হয়তো পারেন না, জাস্ট কাজ পাওয়ার জন্য এসব করছেন ।
  5. যেকোনো প্রজেক্টের প্রপোজাল পাওয়ার পর প্রথমে প্রজেক্ট টা আপনি নিজে রিসার্চ করবেন । এটা আপনি ১০০% করতে পারবেন কিনা সেটা নিজে নিশ্চিত হবেন । চেষ্টা করবেন, সব সময় সিম্পল ডাটা দেওয়ার, এতে ক্লায়েন্টের কনফিডেন্সটা অনেক বেড়ে যাবে । সে ভাববে আপনি কাজটা ভাল ভাবে করতে পারবেন এবং আপনার প্রজেক্টটা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে । কখনোই নিজের সক্ষমতার বাইরের কোনো কাজ শুরুর দিকে একেবারেই নিবেন না । 
  6. গিগ বিষয়ে একটা কথা না বললেই না, আপনার গিগের টাইটেল, আপনার গিগের ফটো এবং আপনার গিগের ডিসক্রিপশন এই তিনটা জিনিস খুব মনোযোগ দিয়ে  করবেন । অন্যদের থেকে যেন আপনি আলাদা ভাবে সার্চ রেজাল্টে নিজের গিগটা প্রেজেন্টেশন করতে পারেন সেদিকে সবসময় লক্ষ রাখবেন । 
  7. অনেকে কাজটা করে থাকেন বাট সবচেয়ে ইম্পরটেন্ট হচ্ছে, আপনি যেকোন মার্কেটপ্লেসে যখন কাজ করবেন, তাদের রুলস ফলো করবেন । যদি রুলস আপনি ফলো না করেন অথবা না পড়ে ভুল করেন তখন কিন্তু আপনার ব্যান  খাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি । নতুনদের টোটালি ব্যান করে দিতে ফাইভার কখনো পিছপা হয় না, ইভেন পুরাতনদের ক্ষেত্রেও তার অনেক সমস্যা করে । এ কারণে খুবই সাবধানে মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন, ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবে না ।

ইউটিউব ভার্সন

Watch YouTube version

আজকে এ পর্যন্তই, অন্য মার্কেটপ্লেস নিয়ে আরো ভিডিও বানানোর ইচ্ছা আছে । ইনশাল্লাহ খুব দ্রুত আপনাদের মধ্যে নতুন blog নিয়ে আসতে পারবো । সবাইকে ধন্যবাদ ।